মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

বিস্তারিত

 

বিবিধ তথ্যাদি

 

পীরগঞ্জের আদিবাসী সম্প্রদায়

 

            পীরগঞ্জ উপজেলার বর্তমানে নয়টিইউনিয়নে আদিবাসীরা বসবাস করছে। এই সমস্ত আদিবাসীরা প্রায় চবিবশটি গোত্র।তাদের মধ্যে সাঁওতাল, ওরাওঁ, মাহালী, পাটনি, মালো, পাহাড়ী প্রভৃতি প্রধান।আদিবাসীদের মধ্যে ৭৫% জন এখনও ভূমিহীন। তারা দিন-মজুরী করে জীবিকা নির্বাহকরে। তাদের বিশেষ কোন নিরাপর্তা নেই। জানা যায় তারা ভারতের ঝাড়খন্ড অর্থাৎডুমকা এলাকা থেকে ইংরেজ আমলে জীবিকা নির্বাহের উদ্দেশ্য পূর্ব বাংলায় এসেরাজশাহী অঞ্চলে বসবাস করতে থাকে। তাদের কতিপয় লোক জন রংপুর ও দিনাজপুর এসেবসবাস করে। তারা এদেশের আদিবাসী। পীরগঞ্জে আদিবাসীর সংখ্যা বর্তমানে প্রায়১২,০০০ (বার) হাজার।

 

        প্রসংগত উল্লেখ্য যে, এ উপমহাদেশেরআদিবাসীরা ইংরেজ সরকারের শাসন,শোষনে, অন্যায়-নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে ১৮৫৫খ্রিস্টাব্দের ৩০ জুন তারিখে সাঁওতাল বিদ্রোহ ঘোষনা করে। ১৭৮৩ খ্রিস্টাব্দেপ্রথমতঃ সাঁওতাল নেতা তিলকা মূরমু (মান্জহী) এর প্রতিবাদ করে। পরবর্তীতে১৮১১,১৮২০,১৮৩১,১৮৫৫ এবং ১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দে সানতাল বিদ্রোহের উদ্ভব ঘটতেথাকে। আরো পরে ১৮৭১, ১৮৭৪,১৮৭৫,১৮৮০ এবং ১৮৮১ খ্রিস্টাব্দে তা আরো জোরদারহয়। তৃতীয় দশকে  ১৯২৬--------- ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দে জিৎ হেমরমের নেতৃত্বেমালদা এলাকায় চরম বিদ্রোহ চলতে থাকে।  সুপ্রকাশ রায় বলেন ‘‘ চল্লিশ বছরব্যাপী ওয়াহাবী বিদ্রোহ এবং ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দের মহা বিদ্রোহের পরই সাঁওতালবিদ্রোহের স্থান’’।

        ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে আগস্ট মাসে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী সম্রাট শাহ্ আলমেরনিকট থেকে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানী লাভ করে ছিল। সেই থেকে শুরু হয়শোষন, অত্যাচার ও জুলুম। মুদ্রার বিনিময়ে ফসল সংগ্রহ করার নিয়ম, তাদেরমধ্যে ঋণ প্রথা চালু, বাকিতে দ্রবাদি বিক্রয়, জমিদার কর্তৃক গরু ও হাতিদিয়ে সানতালদের ফসল নষ্ট এবং তাদের মেয়েদের শীলতাহানি প্রভূতি কারণেসাঁওতালেরা বাধ্য হয়ে জমিদার, মহাজন ও অন্যান্য শাসকদের বিতাড়িত করে এলাকায়শান্তি প্রতিষ্ঠা করার উদ্দেশ্য ছিল সাঁওতাল বিদ্রোহের মুল লক্ষ্য।

তারা সাঁওতাল রাজ কায়েমের লক্ষে ১৮৫৫খ্রিস্টাব্দের ৩০ জুন তারিখে সিঁদু ও কানুর ডাকে ইংরেজ শাসক, কোম্পানীরকর্মচারি, জমিদার ও মহাজনদের বিরুদ্ধে ৩০-৫০ হাজার নর-নারী যোগ দিয়েছিলগণ-সংগ্রামে। ফলে ইংরেজ সরকারের ভিত কেঁপে উঠেছিল সে মুক্তি সংগ্রামে।উল্লেখ্য যে, বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশ নামক ভূখন্ডের রূপ দিতেআদিবাসীদেও অবদান কোন অংকে কম নেই। শত শত স্বাধীনতা কামী আদিবসী যুবক ১৯৭১খ্রিস্টাব্দে বীরের মত অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিলেন। তাদের অনেকেইমুক্তিযুদ্ধে শহীদের খাতায় নাম লিখিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশ গ্রহণকরেও নাগরীক হিসাবে তাদের গবেষণা ও বিনেদনের বিষয় মাত্র। স্বাধীনতাত্তোরবিভিন্ন রাজনৈতিক দল আদিবাসীদেরকে বিভিন্ন ভাবে ব্যবহার করছে ব্যক্তি/দলীয়কায়দা হাছিলে লক্ষ্যে এই নিপিড়ীত, অবহেলীত এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্টীকে পিছনেফেলে কখনই যথার্থ সার্বিক উন্নয়ন ও ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠন করা কোন ভাবেইসম্ভব নয়। একবিংশ শতাব্দিতে দাড়িয়ে পৃথিবীর অন্যান্য রাষ্ট্রে নাগরিকরাযেখানে উন্নয়ন ও ডিজিটাল পথ খুচ্ছে সেখানে বাংলাদেশের আদিবাসীদেরসাংবিধানীক স্বীকৃতি আদায়ের জন্য সংঘ্রাম করতে হয় এর চেয়ে দুঃখ জনক ঘগনা কিহতে পারে। বলাই বাহুল্য যে বিশ্বায়নের উদয় লগ্নে আদিবাসীদের নিজ ঐতিহ্যসংস্কৃতি ধারণ করে আদিবাসী বোধ জাগ্ররত করা আরো কঠিন হয়ে দাড়িয়েছে। বলতেদিধা নেই যে, আদিবাসীদের সামাজিক রীতি-নীতি, গল্প, গান, লোকগাথা বৈচিত্রময়ঐতিহ্যবাহী সংরক্ষণ ও লালন সরকারী বে-সরকারী সংস্থা ও সচেতন ব্যক্তি সকলেরদায়িত্ব ও কর্তব্য। তাদের সংস্কৃতি কৃস্টি একাধারে যে পরিমাণ সমৃধ্য শালীতার চেয়ে বেশি ভয়ংকর ও মরমানতিক তদের বেচে থাকার ইতিহাস। আদিবাসীরা জন্মবিধি বিভিন্ন কৌশলে প্রতিনিয়োত নির্যাতন, লাঞ্চনা ও শোষণের সিকার হচ্ছে।সম্পদ ও সংস্কৃতি অধিকার থেকে তাদেরকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। মহাকালেস্রোতধারায় ভবিষ্যতেও একই গতি চলতে থাকলে বিলিন হয়ে যাবে বৈচিত্রময়সমৃদ্ধশালী আদিবাসী সংস্কৃতি। নিচিহ্ন হয়ে যাবে পৃথিবীর বুক থেকে আদিবাসীনামক জাতিসত্তা। এমন কি এক পর্যায়ে আদিবাসী হয়ে যাবে চিড়িয়াখানার খাচায়আবদ্ধ বন মনুষের সদৃশ্য স্বরূপ।

        আজও বাংলাদেশের বিশেষ করে পীরগঞ্জের আদিবাসীরা সে অবস্থাথেকে সম্পুর্ণ মুক্ত হতে পারেনি। আজও তাদের ওপর এলাকার কতিপয়স্বার্থান্বেষী মহল তাদেরকে ঠকানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের জমিজমারউপর এখনও অনেকের লোলুপ দৃষ্টি রয়েছে। ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দে চতরা-কাঙ্গুরপাড়াআদিবাসীদের সাথে এলাকার কতিপয় লোকজনদের জমি সংক্রান্ত হামলা-মামলা তারসাক্ষ্য বহন করছে।

            এখনো তারা বাংলাদেশী মানুষের কাছে ভদ্রচিত আচরণ থেকে অনেক ক্ষেত্রেইবঞ্চিত। হাট-বাজার, হোটেল রেষ্টুরেন্টে তাদের বসার ও খাবার বৈসম্যতা এখনো

বিরাজমান। অফিস-আদালতে হিন্দু-মুসলমান জাতিসত্বার সাথে তারা পাল্লাদিয়ে উঠতে পারছে না। তাদের নিজস্ব ভাষা, নিজস্বসংস্কৃতি-কৃষ্টি নিয়ে তারা আজও আমাদের কাছে উপেক্ষিত। এর অবসানের জন্যসামাজিক এবং রাষ্ট্রীয় উদ্যেগ জরুরি।

 

পীরগঞ্জের আদিবাসী পল্লীঃ

 

ক্রমিক নং

ইউনিয়ন

গ্রাম

সম্প্রদায়

১নং চৈত্রকোল

বাসুদেবপুর

উঁরাও, পাহান, মুন্ড

১নংচৈত্রকোল

খালিশামিশনপাড়া

উঁরাও, মাহাতো, পাহান

১নংচৈত্রকোল

দানেশ নগর

সাঁওতাল, উঁরাও, পাহান

১নংচৈত্রকোল

চৈত্রকোল

সাঁওতাল, মাহালী, উঁরাও,

১নং চৈত্রকোল

অনন্তরামপুর

উঁরাও, পাহান

১নং চৈত্রকোল

উত্তর দুর্গাপুর

উঁরাও, পাহান

১নং চৈত্রকোল

চিলিনমপুর

সাঁওতাল,

১নং চৈত্রকোল

ওদলাপাড়া

উঁরাও

১ নং চৈত্রকোল

বালাপাড়া

উঁরাও

১০

৩ নং বড়দরগাহ

ভগবানপুর

মাহাতো, উঁরাও

১১

৩ নং বড়দরগাহ

গুজ্জিপাড়া

এাহালী

১২

৩ নং বড়দরগাহ

হাজিপুর

গাঁওতাল, উঁরাও

১৩

৫ নং মদনখালী

কোচারপাড়া

সাঁওতাল, দাস, পাহান

১৪

৬ নং টুকুরিয়া

মোহনাইল

সাঁওতাল,

১৫

৬ নং টুকুরিয়া

ছাতুয়া

সাঁওতাল, উঁরাও

১৬

৬ নং টুকুরিয়া

আটিয়াবাড়ী

উঁরাও, পাহান, তুরী

১৭

৬ নং টুকুরিয়া

কাহাপুর

উঁরাও, মাহাতো

১৮

৭ নং বড় আলমপুর

পাটগ্রাম

সাঁওতাল

১৯

৭ নং বড় আলমপুর

বড় আলমপুর

সাঁওতাল

২০

৭ নং বড় আলমপুর

ষোলঘড়িয়া

সাঁওতাল

২১

১০ নং শানেরহাট

পবনপড়া (খিয়ারচড়া)

সাঁওতাল

২২

১০ নং শানেরহাট

শানেরহাট (খোলাহাটি)

সাঁওতাল

২৩

১০ নং শানেরহাট

খামারপাড়া

সাঁওতাল

২৪

১০ নং শানেরহাট

বিগডারী

সাঁওতাল

২৫

১১ নং পাঁচগাছি

ছোট পহাড়পুর

উঁরাও, পাহান

২৬

১১ নং পাঁচগাছি

দশমৌজা শাহাপুর

উঁরাও, মুন্ড এবং বৌদ্ধ

২৭

১১ নং পাঁচগাছি

বড় পাহাড়পুর

উঁরাও,

২৮

১১ নং পাঁচগাছি

আমোদপুর

উঁরাও,

২৯

১১ নং পাঁচগাছি

এনায়েতপুর

উঁরাও,

৩০

১৩ নং বামনাথপুর

বামনাথপুর

উঁরাও, মাহাতো

৩১

১৪ নং চতরা

বিরামপুর

সাঁওতাল

৩২

১৪ নং চতরা

সখিপুর

সাঁওতাল

৩৩

১৪ নং চতরা

গারোপাড়া

সাঁওতাল

৩৪

১৪ নং চতরা

অনন্তপুর

সাঁওতাল ও মালপাহাড়ী

৩৫

১৪ নং চতরা

ভগবানপুর

সাঁওতাল

৩৬

১৪ নং চতরা

শিবটারী

সাঁওতাল

৩৭

১৪ নং চতরা

টিফরাপাড়া

সাঁওতাল

৩৮

১৪ নং চতরা

চতরা মাহালীপাড়া

মাহালী

৩৯

১৪ নং চতরা

কলেজ পাড়া

সাঁওতাল

৪০

১৪ নং চতরা

গিলাবাড়ী

সাঁওতাল

৪১

১৪ নং চতরা

আমলিপাড়া

সাঁওতাল

উল্লেখিত গ্রাম/পাড়া সমূহে পীরগঞ্জে মোটআদিবাসীর সংখ্যা ১৬২৭০ জন, তাদের মধ্যে পুরুষ- ৮%, মহিলা- ৪%, শিক্ষিত- ৬%, ভূমিহীন- ১৭%, দরিদ্র- ১২%, দারিদ্রশীমার নিচে- ৭৯%। (পীরগঞ্জ উপজেলাআদিবাসী উন্নয়ন সংস্থা কর্তৃক ২০১০ সালের জরিপ অনুযায়ী) 

        

পীরগঞ্জের হিন্দু সম্প্রদায়েরধর্মীয় উৎসবাদীঃ হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসবাদী পালনেরলক্ষ্যে হিন্দু প্রধান এলাকা সমূহে গড়ে উঠছে নতুন-পুরাতন মন্দির ও পূজামন্ডপ। এ সমস্ত মন্দির-মন্ডপ সমূহে তারা ১২ মাসে ১৩ পার্বন করে থাকে।তন্মধ্যে দূর্গা পূজা উৎসব প্রধান। পীরগঞ্জে হরিবাসর, দূর্গা মন্দির,  চতরাহাটের দূর্গা মন্দির, মাদারগঞ্জ, চৈত্রকোলসহ পীরগঞ্জে প্রায় প্রতিহিন্দু পাড়াগুলোতেই সকল প্রকার পূজা-অর্চনা হয়ে থাকে।  বিশেষ করে শ্বারদীয়দূর্গোৎসবে হিন্দু মুসলমানের পদচারনায় সার্বজনীন মেলা অনুষ্ঠিত হয়।

   

পীরগঞ্জ উপজেলার ইমামবাড়ি/মেলাঃপীরগঞ্জউপজেলায় বিভিন্ন স্থানে ইমাম বাড়া বা ইমাম বাড়ি দৃষ্ট হয়। এ সমস্ত ইমামবাড়াতে পূর্বে মুহার্মের মেলা বসতো। মেলায় বিভিন্ন দোকান পশারতো থাকতোই, তার সাথে পুতুল নাচ, থিয়েটার ও ঝুমুর গানের আসর বসতো রাতে। খেলা চলতো লাঠিখেলা। বাজতো ঢাক-ঢোল, সানাই ইত্যাদি। নৃত্য চলত নিশানের নৃত্য। বসতো টোপেরমেলা। মেলার প্রধান আকর্ষণ ছিল তাবুজ। বর্তমানে ইহা বিলুপ্তির পথে। তবুওকোন কোন এলাকায় এখনও মুহার্মের মেলা বসে এবং তাবুজ, লাঠি খেলা দেখা যায়।এসমস্থ মেলার স্থান এবং ইমাম বাড়ার মধ্যে বড় দরগা, হোসেনপুর ইমাম বাড়ি, বৌ-বারুনি প্রভৃতি প্রধান। তা ছাড়াও নীল দরিয়া, বড় বিলা, গোপালপুর, পাট সহপীরগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে বৈশাখী মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।

      

পীরগঞ্জের জেলে পরিবারঃ বাংলাদেশেরবিভিন্ন অঞ্চলের মত পীরগঞ্জেও জেলে পরিবারগুলো উল্লেখযোগ্য। পীরগঞ্জেরবর্তমানে জেলে পরিবারের সংখ্যা প্রায় ২১৬২ বলে জানা যায়। তবে তারাবর্তমানে   অত্যন্ত বিপদগ্রস্থ। এলাকায় নদী ও বিলগুলো সরকারি ইজারারমাধ্যমে সম্পদশালীদের নিয়ন্ত্রণে থাকায় সাধারণ জেলেরা মুক্ত জলাশয়ে মাছ ধরাথেকে বঞ্চিত। ‘জাল যার, জল তার’ এ স্লোগানটি যথার্থ প্রতিফলন বাস্তবেদৃষ্ট হয় না। ফলে তারা জীবিকা অর্জনে মাছ ক্রয় করে ব্যবসা করতে বাধ্যহচ্ছে। মাছ ধরার ব্যাপারে ইজারাদারের সাথে তাদেরকে চুক্তিবদ্ধ হয়ে মাছ ধরতেহচ্ছে। মৎস্যচাষি ও মৎস্যজীবি সমিতিগুলোর মাধ্যমেতারা আশানুরুপ সুবিধা ভোগকরতে পারছে না। ফলে মানবেতর জীবন যাপনে বাধ্য হচ্ছে পীরগঞ্জের জেলেসম্প্রদায়।

পীরগঞ্জেরবনাঞ্চলঃপীরগঞ্জের ইতিহাসে বনাঞ্চলের গুরুত্ব অপরিসীম। পীরগঞ্জউপজেলার ১নং চৈত্রকোল ইউনিয়নের ঝাড় বিশিলা, ৫নং মদনখালি ইউনিয়নেরকাদিরাবাদ, ৭নং বড় আলমপুর ইউনিয়নের পাটগ্রাম ও পত্নিচড়া এবং ১৪নং চতরাইউনিয়নের জলমহাল মৌজায় অবস্থিত নীল দরিয়ায় রয়েছে এক বিশাল বনাঞ্চল। পীরগঞ্জউপজেলায় উল্লেখিত এলাকা সমূহে ১৮টি মৌজায় মোট বনের পরিমান ৮১০ একর।

            ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দে ১নংচৈত্রকোল ইউনিয়নের শাল্টি গোপালপুরে বন বিভাগের রেঞ্জ অফিস স্থাপিত হয়। এইরেঞ্জ অফিসের আওতায় ০৬টি বীট অফিস রয়েছে। কাদিরাবাদের বীট অফিস তাদেরঅন্যতম। এই সমস্ত বনে শাল কাঠসহ অন্যান্য জ্বালানি কাঠ আবাদ করা হচ্ছে। এসমস্ত কাঠ থেকে এক দিকে যেমন সরকারী রাজস্ব খাতে আয়ের প্রবাহ সৃষ্টি করছে, অন্যদিকে তেমনি নৈসর্গিক শোভা বর্ধন করছে পীরগঞ্জের বনাঞ্চল।

পীরগঞ্জের সম্ভাবনাময় লৌহ খনিরস্থান ভেলামারী পাথারঃউল্লেখিত স্থানটি পীরগঞ্জ থানা/উপজেলা সদরথেকে ০৬ কিঃমিঃ উত্তর-পূর্ব দিকে ১০নং শানেরহাট ইউনিয়নে  অবস্থিত।স্বাধীনতার পূর্বে এই দেশ ছিল পূর্ব পাকিস্তান। তৎকালীন ভূ-তত্ববিদগণউল্লেখিত ভেলামারী পাথার নামক স্থানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। তাতে তারানিশ্চিত হন যে, এই স্থানটির ভূ-গর্ভে লোহার খনি রয়েছে। তবে তা তখন ছিল তরললৌহ। সেহেতু তা উত্তোলন করা সম্ভব ছিল না। পরবর্তীতে দেশ বিভক্ত হওয়ার ফলেআজ স্বাধীনতার ৪২ বছর অতিক্রান্ত হতে চলছে কিন্তু  ভেলামারী পাথারে লৌহ খনিব্যাপারে আর কোন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়নি। বিষয়টি গবেষনার দাবী রাখে।

পীরগঞ্জের নদীর গতি পথঃপীরগঞ্জথানা/উপজেলার উল্লেখযোগ্য একটি নদীর নাম আখিরা। আখিরা একটি ছোট নদী। রংপুরজেলার পীরগঞ্জ থানা/উপজেলা এলাকা ও দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট থানা/উপজেলারউপর দিয়ে প্রবাহিত এই নদীটি। ১১৭৬ বঙ্গাব্দে দুর্ভিক্ষের সময় জরুরিভিত্তিতে খাদ্য সরবরাহের জন্য এই নদীর উৎপত্তি। পীরগঞ্জের বড় বিলা নামকজলাশয় থেকে রংপুর সদর থানা/উপজেলার সদ্যঃ পুস্কুরুনী চৌদ্দ ভূষন বিলপর্যন্ত একটি খাল খনন করা হয়। এরপর বড় বিলা থেকে আর একটি খাল খনন করেঘোড়াঘাট থানা/উপজেলার উত্তরে করতোয়া নদীর সাথে সংযুক্ত করা হয়।

 

মরা নদীঃ রংপুর জেলারপীরগঞ্জ থানা/উপজেলার ১নং চৈত্রকোল গ্রামের একটি জলাশয় থেকে উল্লেখিত নদীটিউৎপত্তি হয়ে সর্পিল গতিতে বয়ে গেছে আটিয়াবাড়ি গ্রামে। পরে এটি গন্ধর্বপুর, কোমরসাই, কাদিরাবাদের মধ্যদিয়ে প্রবাহিত হয়ে মোনাইল গ্রামের পশ্চিমেসুজারকুঠি গ্রামের মধ্য দিয়ে করতোয়া নদীর সাথে মিলিত হয়েছে। ইহা ছাড়াওকুয়াতপুর হামিদপুর গ্রাম সংলগ্ন করতোয়া নদী থেকে সোনাতলা-চতরা হাটের পশ্চিমপার্শ্ব দিয়ে আর একটি মরা মচ্চ নদী টোংরার দহ হয়ে করতোয়া নদীর সাথে মিলিতহয়েছে। 

 

পীরগঞ্জেরকতিপয় সৃজনশীল বচন-প্রবচন

 

   বাংলাদেশের অঞ্চল ভেদে ইতর-ভদ্র প্রায়সকল শ্রেণির মানুষই কথায় কথায় কতিপয় বচন-প্রবচন ব্যবহার করে থাকে। তন্মধ্যেকতেক সার্বজনীন আর কতেক আঞ্চলিক। বই-পুস্তকেও অলংকার হিসেবে ব্যবহৃত হয়বচন-প্রবচন। এ গুলো আপামর বাংগালি প্রতিভার পরিচয় বহন করে আসছে। কিন্তু এমনকতেক বচন ও প্রবচন পীরগঞ্জে প্রচলিত রয়েছে, যে গুলো শুধু পীরগঞ্জেরমানুষেরই সৃজনশীল প্রতিভার পরিচয় দেয়। পীরগঞ্জবাসীর দ্বারা সৃষ্ট, কথিত এবংবোধগম্য সে সকল বচন-প্রবচন গুলোও হতে পারে বাংলা সাহিত্যের রুপক ও অলংকারসম্পদ। হতে পারে বাংলা ভাষা এবং বাংলা অভিধানের নতুন তথ্য সংযোজন। পীরগঞ্জের নিজস্ব সম্পদ এ সকল বচন ও প্রবচন। নিম্নে তার কতিপয় নমুনা তুলে ধরাহলো।

 

নমুনাবচন-প্রবচন

 

১। হোপে গেনু মিঠাপুকুর। খায়া আনু বাঙ্গারচোপড়। (বিফল অর্থে) পীরগঞ্জ উপজেলার পার্শ্ববর্তী উপজেলা মিঠাপুকুর।পীরগঞ্জ থেকে কে, কবে  মিঠাপুকুর উপজেলায় গিয়ে বাঙ্গার চোপড় খেয়ে আসছে তাআমার জানা নেই। জানা নেই বাঙ্গার চোপড় আসলে কি? তবে ভাবে বুঝি মাকাল ফল বাঘোড়ার ডিম এ ধরনের কোন অখাদ্য বা অলৌকিক কিছু হবে। এখানে আরও লক্ষনীয় যে, ইংরেজি ‘‘হোপ’’ অর্থ আশা থেকে ,হোপে’’ বা আশা করে মিঠাপুকুর যাওয়া এবং বিফলহয়ে অখাদ্য বাঙ্গার চোপড় খেয়ে বা কিছু না খেয়ে ফিরে এসে উল্লেখিত বচন ওপ্রবচনের অবতারনা করেছেন সুচতুর কোন ব্যক্তি। যা অদ্যাবধি পীরগঞ্জের প্রায়সকল মানুষের মুখেই শোনা যায়। যেমনঃ বিপদে পড়ে টাকা ধার করতে গেলাম শ্বশুরবাড়ী। কিন্তু পেলাম না। তাই বলি: হোপে গেনু মিঠাপুকুর, খায়া আনু বাঙ্গারচোপড়’ ইত্যাদি।

 

২। রাণীগঞ্জের মুড়ি বেজায় মচমচা।

* বলি খায়া দেখছিলু?

     * না, দাদা কয়া গেছে। (আজগুবি কথাপ্রসঙ্গে)

 পীরগঞ্জেরপশ্চিম প্রান্তে ঘোড়াঘাট উপজেলার নুনদহ এবং সাতপাড়া ঘাট। সে ঘাটে মাড়েরনৌকায় করতোয়া নদী পার হয়ে প্রায় ০৮ কিঃ মিঃ গেলে পাওয়া যায় রাণীগঞ্জ হাট।অতীতে এ ঘাটে যাতায়াত ব্যবস্থা ছিল অত্যন্ত অনুন্নত। লাল মাটি ও কংকর যুক্তক্লেশকর রাস্তা। সে হাট থেকে পীরগঞ্জ এলাকার কে, কবে ফিরে এসে নাতী-নাতনীরকাছে গল্পে গল্পে খোশ গল্প করে ছিল যে, রাণীগঞ্জের মুড়ি বেজায় মচমচা। শুনেহয়তো বা নাতী-নাতনীরা বায়না ধরেছিল যে, রাণীগঞ্জের মুড়ি খাওয়ার জন্য।কিন্তু তাদের দাদা সে বায়না পুরন করতে পারেনি। খাওয়াতে পারেনি রাণীগঞ্জেরমচমচা মুড়ি। তবে দাদার উল্লেখিত কথাটা তাদের মনে বেদ বাক্যের মত মনেরেখাপাত করে আছে। অন্যের কাছে তা আজগুবি মনে হলেও তার দাদার মুখে শোনা সেকথাটাই পীরগঞ্জে হয়েছে প্রবাদ বাক্য। অদ্যবধি অতীতের কোন আজগুবী কথা, কুসংষ্কার মূলক উক্তি কেউ কেউ শুনেই অন্ধ বিশ্বাস করে থাকে। আবার কেউ কেউহেসেই উড়ে দেয়। যেমনঃ উল্লেখিত বচনটি।

 

           অনুরুপভাবে বিভিন্ন ব্যক্তি, বস্ত্ত, স্থান-কাল-পাত্র ভেদে পীরগঞ্জেরমানুষ যেসকল প্রবাদ বাক্য, বচন ও প্রবচনের জন্ম দিয়েছে, তা সংগ্রহ এবংগবেষনা জরুরি আমার জানা মতে এলাকা ভিত্তিক আরও কিছু বচন-প্রবচন অর্থ সহনিম্নে বর্নিত  হলো।

  1. চতরা হাটত কামার, দাও বেনে দেও হামার (সহজ প্রাপ্যতা বোঝাতে)
  2. অনতপুরের সাতাল (নোংরামি অর্থে)
  3. মানাশির পাথার (বড় জমি বা মাঠ বোঝাতে)
  4. মাশানের দও (পেটুক অর্থে)
  5. চট্কু খাঁর ঘোড়া (দুষ্ট নারীর চাল-চলনপ্রসঙ্গে)
  6. শালা যেনরায় পুরের জমিদার (মেকি জৌলুসধারী ব্যক্তির প্রতি কটুক্তি)
  7. বড় বাসার ষাড় (বেপরোয়া ছোকরার প্রতি ভর্ষণাঅর্থে)
  8. অমপুর(রংপুর)না যমপুর (ক্লেশ ও ভীতি অর্থে)

(অতীতে পাঁয়ে হেটে রংপুর যাতায়াত ছিলঅত্যন্ত ক্লেশকর এবং সন্ত্রাসী আক্রমণের আশংকা যুক্ত)

উল্লেখিত বচন-প্রবচন গুলো ছাড়াও পীরগঞ্জেবিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে শত শত বচন ও প্রবচন তা সময়ের সল্পতা হেতু এমুহূর্তে সংগ্রহ করা আমার পক্ষে দূরহ। পরবর্তীতে তা সংগ্রহ করে এতদ সংগেসংযুক্ত করণের জন্য ইচ্ছা রইলো।

 

 

পীরগঞ্জ উপজেলার ইউনিয়ন কমপ্লেক্সভবন সমূহের অবস্থানঃ

 

১ নং চৈত্রকোল ইউনিয়নঃপীরগঞ্জথানা/ উপজেলা সদর থেকে ১৮ কিঃ মিঃ উত্তর-পশ্চিম কোনে শাল্টি সমশ দীঘি নামকস্থানে উল্লেখিত ইউনিয়ন কমপ্লেক্স ভবন অবস্থিত। 

 

২নং ভেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নঃপীরগঞ্জ থানা/ উপজেলা সদর থেকে ২০ কিঃ মিঃউত্তর-পশ্চিম কোনে ভেন্ডাবাড়ী হাটে উল্লেখিত ইউনিয়ন কমপ্লেক্স ভবন অবস্থিত ।

 

৩নং বড় দরগা ইউনিয়নঃপীরগঞ্জ থানা/ উপজেলা সদর থেকে ০৮ কিঃ মিঃউত্তর-পূর্ব কোনে রংপুর--ঢাকা মহাসড়ক সংলগ্ন বড় দরগা নামক স্থানে উল্লেখিতইউনিয়ন কমপ্লেক্স ভবন অবস্থিত।

 

৪নং কুমেদপুর ইউনিয়নঃপীরগঞ্জ থানা/ উপজেলা সদর থেকে ১০ কিঃ মিঃউত্তর-পশ্চিমে রসুলপুর নামক স্থানে উল্লেখিত ইউনিয়ন কমপ্লেক্স ভবন অবস্থিত।

 

৫নং মদন খালি ইউনিয়নঃপীরগঞ্জ থানা/ উপজেলা সদর থেকে ১১ কিঃ মিঃপশ্চিমে খালাশপীর হাট সংলগ্ন উল্লেখিত ইউনিয়ন কমপ্লেক্স ভবন অবস্থিত।

 

৬নং টুকুরিয়া ইউনিয়নঃপীরগঞ্জ থানা/ উপজেলা সদর থেকে ১২ কিঃ মিঃউত্তর-পশ্চিম কোনে মোনাইল নামক স্থানে উল্লেখিত ইউনিয়ন বোর্ড অফিস অবস্থিত।

 

৭নং বড় আলমপুর ইউনিয়নঃপীরগঞ্জ থানা/ উপজেলা সদর থেকে ০৮ কিঃ মিঃপশ্চিম-দক্ষিণ কোনে পত্নিচড়া নামক স্থানে উল্লেখিত ইউনিয়ন কমপ্লেক্স ভবনঅবস্থিত।

 

৮ নং রায়পুর ইউনিয়নঃপীরগঞ্জথানা/ উপজেলা সদর থেকে ০৫ কিঃ মিঃ পশ্চিমে বাহাদুর নামক স্থানে উল্লেখিতইউনিয়ন কমপ্লেক্স ভবন অবস্থিত।

 

৯নং পীরগঞ্জ ইউনিয়নঃপীরগঞ্জ থানা/ উপজেলা সদর থেকে ০৩ কিঃ মিঃউত্তরে রংপুর--ঢাকা মহাসরক সংলগ্ন লালদীঘি নামক স্থানে উলেলখিত ইউনিয়নকমপ্লেক্স ভবন অবস্থিত।  

 

১০নং সানের হাট ইউনিয়নঃপীরগঞ্জ থানা/ উপজেলা সদর থেকে ০৭ কিঃ মিঃউত্তর-পূর্ব কোনে শানের হাট নামক স্থানে উল্লেখিত ইউনিয়ন কমপ্লেক্স ভবনঅবস্থিত।

 

১১ নং পাঁচগাছি ইউনিয়নঃপীরগঞ্জথানা/ উপজেলা সদর থেকে ১৫ কিঃ মিঃ উত্তর- পূর্ব  কোনে পাঁচগাছি নামকস্থানে উল্লেখিত ইউনিয়ন কমপ্লেক্স ভবন অবস্থিত ।

 

১২নং মিঠিপুকুর ইউনিয়নঃপীরগঞ্জ থানা/ উপজেলা সদর থেকে ০৩ কিঃ মিঃপূর্বে মিঠিপুর নামক স্থানে উল্লেখিত ইউনিয়ন কমপ্লেক্স ভবন অবস্থিত।

 

১৩নং রামনাথপুর ইউনিয়নঃপীরগঞ্জ থানা/ উপজেলা সদর থেকে ০৩ কিঃ মিঃদক্ষিণে রামনাথপুর নামক স্থানে উল্লেখিত ইউনিয়ন কমপ্লেক্স ভবন অবস্থিত।

 

১৪নং চতরা ইউনিয়নঃপীরগঞ্জ থানা/ উপজেলা সদর থেকে ১১ কিঃ মিঃদক্ষিণে চতরা হাট নামক স্থানে উল্লেখিত ইউনিয়ন কমপ্লেক্স ভবন অবস্থিত ।

 

১৫নং কবিলপুর ইউনিয়নঃপীরগঞ্জ থানা/ উপজেলা সদর থেকে ১২ কিঃ মিঃদক্ষিণে লালদীঘি মেলা নামক স্থানে উল্লেখিত ইউনিয়ন কমপ্লেক্স ভবন অবস্থিত।

 

            

পীরগঞ্জ উপজেলার বিশিষ্ট গুণীজন

 

১.ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া

২. মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

২.সাধক কবিহেঁয়াত মামুদ

৪.প্রয়াত কমরেড মণিকৃষ্ণ সেন

৫.কাজীআব্দুল হালিম

৬. হযরত শাহ্ ইসমাইল গাজী(রহ:)

৭.শেখ দোস্ত মোহাম্মদ

৮.কুশাই

৯.মৌলভী সৈয়দ আমানত আলী

১০. শাহ্ কলিম উদ্দিন আহমেদ

১১.তছলিম উদ্দিন আহমেদ

১২.মরহুম শাহ্ আব্দুর রউফ

১৩.খন্দকার আব্দুল গণি

১৪.মতিউর রহমান

১৫.বীর মুক্তি যোদ্ধা আবুল কালাজ আজাদ এমপি

১৬.প্রফেসর ড: মোহাম্মদ শফিকুল্লাহ

১৭. কমরেড মণিকৃষ্ণ সেন

১৮.কাজী আব্দুল হালিম

১৯.পীর হযরত আব্দুল কাদের (রহ:)

২০. আব্দুল জলিল প্রধান

 

 

পীরগঞ্জউপজেলার বিশিষ্ট ভাষা সৈনিক

 

১.সুফিমোতাহার হোসেন (লেখক ও গবেষক)

       

পীরগঞ্জউপজেলার প্রসিদ্ধ মাজার সমূহঃ

         

১। হযরত শাহ ইসমাঈল গাজী (রহ) এর মাজার শরীফ। কাটাদুয়ার, চতরা।

২। সাধককবি হেঁয়াত মামুদ এর মাজার শরীফ। ঝাড় বিশিলা।

৩। বারকুড়ার মাজার ।

৪। জগনাথ পুর মাজার।

৫। হযরতইয়াদ আলী পীর সাহেবের মাজার। পাটগ্রাম।

৬।পাগলাপীরের মাজার, চতরা।

৭। বিষ্ণুপুর উচ্চ বিদ্যালয়সংলগ্ন মাজার।

৮। মানিক পীরের মাজার, জয়পুর।

৯।বাজিতপুর মাজার।

১০। হযরত আব্দুল লতিফ পীর সাহেবের মাজার, যাদবপুর।

১১। বটের হাট মাজার।

১২। মাদারপীরের মাজার- মাদারহাট/মাদারপুর।

 

 

পীরগঞ্জউপজেলার প্রসিদ্ধ দরগা সমূহঃ

    

১। দরিয়ার দরগা।

২। বড়দরগা।

৩। হাতিবান্ধা দরগা।

৪। বড়বিলার দরগা।

৫। সোটাপীরের দরগা।

৬।মঞ্জিলার দরগা।

৭। মাদার পীরের দরগা। 

 

পীরগঞ্জউপজেলার প্রসিদ্ধ বিল সমূহঃ

  

১। নীল দরিয়ার বিল।

২। বড়বিলা।

৩। আংরার বিল।

৪। সাঠুকারবিল।

৫। ফলিয়ার বিল।

৬। কোদালধোয়ার বিল।

৭। চাপুন দহ বিল।

৮। দলদলিরবিল।

৯। পদুম হারের বিল।

১০। বড়দহের বিল।

১১। সোনা মতির বিল।

১২।সরলিয়ার বিল।

১৩। কাউয়াত পাড়ার বিল।

১৪।শ্যামপুরের বিল।

১৫। ধাড়া কোলের বিল।

১৬। শৈলধুক্কীর বিল।

১৭। টুকুরিয়ার বিল।

১৮।সোনাভরির বিল।

১৯। ছেড়াছেড়ির বিল ।

২০। খলিশাগাড়ির বিল।

২১। চত্রার বিল (ভেন্ডাবাড়ি)।

২২।সোনারের বিল।

২৩। মেচনার বিল।

২৪। আত্রাইবিল।

২৫। পানেয়ার বিল।

২৬।পাংল্যার বিল।

২৭। বাগুনের বিল।

২৮।বিন্নাগাড়ির বিল।

 

পীরগঞ্জ উপজেলারপ্রসিদ্ধ দীঘি/পুকুর সমূহঃ

 

১। লালদীঘিমেলার দীঘি।

২। হাতি বান্ধার দীঘি।

৩। হরিনশিং এর দীঘি।

৪। পাট গ্রামের রাজ দীঘি।

৫। বড়দরগার দীঘি।

৬। ধাড়া কোলের দীঘি।

৭।ফজুল্লার দীঘি।

৮। এম,পির দীঘি (আনন্দ নগর)

৯। বাঘেরদীঘি।

১০। শমস দীঘি।

১১। কাউয়ারপুকুর।

   

 

পীরগঞ্জ উপজেলার প্রসিদ্ধ গড় সমূহঃ

      

১। পাট গ্রামে পুরীর গড়।

২।দ্বারিকা পাড়ার গড়।

৩। লাল চাঁন পুরের গড়।

৪। সাতগড়ার গড়।

৫। মেচনার গড়।

৬। গড়েরবাজারের গড়।

৭। লোরা রাজার গড় (পাটে)।

৮। রাখালবাদশার গড়।

৯। নীল দরিয়ার গড়।

১০।নীলাম্বরের গড় (বড় বিলার পাশে)। 

 

        

পীরগঞ্জউপজেলার প্রসিদ্ধ ফল-ফলান্তি সমূহঃ

 

১। আম, কাঁঠাল, লিচু, আমড়া, জাম, জলপাই, কামরাঙ্গা, ডালিম, কুল, পেঁয়ারা, জাম্বুরা, আতা, ডেউয়া, চালতা, বেল, সফেদা, শ্রীফল, কদবেল, পেঁপে, কলা, তাল, নারিকেল, আনারস, তরমুজ, ফুটি, খেজুরইত্যাদি প্রধান।

   

 

 

পীরগঞ্জ উপজেলারবিলুপ্ত বন-ফলঃ 

 

পেলুন, ভোট বরাই, আকাল নাড়ু, বন খই ইত্যাদি।

              

পীরগঞ্জ উপজেলার বিলুপ্ত বন্য প্রাণীসমূহঃ

 

  বাঘ, ছেদার, উদ, শেয়াল (বিলুপ্তিরপথে)।

 

 

পীরগঞ্জ উপজেলার কিছু পরিচিত পাখিঃ

 

কাক, বাদুড়, বাবুই, গংরা, দোয়েল, টুনটুনি, সারো, গোবরে সারো, হাড়ি চেচা, বুলবুলি, পায়রা, ছোট ঘুঘু, পেঁচা, হলুদ পাখি, কাট ঠোকরা, কোকিল, ফটিক জল, বউ কথা কও, মাছ রাঙ্গা, কানা বগ ইত্যাদি।

 

পীরগঞ্জ উপজেলার বিলুপ্ত/বিলুপ্ত প্রায়কিছু পাখিঃ

 

হাড় গিলা, শকুন, মোন্নাশকুন, লাল চিল, গাংচিল, কুরুয়া, টিয়া, ডাহুক, কোড়া, সাদা বক, বড় ঘুঘু, গাংসারো, কাল পেঁচা/গুদুম পেঁচা ।

 

পীরগঞ্জউপজেলার কিছু বনজ/জলজ ফুলঃ

 

শিমুল ফুল, বকুল ফুল, কদম ফুল, হিজল ফুল, চাঁপা ফুল, কড়ি ফুল, কলা ফুল, ধুতুরা ফুল, শাপলা ফুল, পদ্ম ফুল, কচুড়ী ফুল, কলমী ফুল, কাঁশ ফুল, বিস্কিটফুল, বিবির জট, বিভিন্ন প্রজাতির ঘাস ফুল, ভাটাই ফুল ইত্যাদি।

 

পীরগঞ্জ উপজেলারকিছু বাগান-বিলাসী ফুলঃ

 

বিভিন্ন জাতেরগোলাপ, পলাশ, বিভিন্ন জাতের গাঁদা, গন্ধরাজ, জুঁই, হাসনাহেনা, টগর, পারিজাত, জবা, শিউলি, কামিনি, গেট ফুল, বেলি, সূর্য মূখী ইত্যাদিসহ বিদেশীনানা প্রজাতির ফুল বর্তমানে বাগান বিলাসীদের বাগানে শোভা বর্ধন করছে। তারসঙ্গে রয়েছে বিভিন্ন জাতের পাতা বাহার।