মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

ভৌগলিক পরিচিতি

ভৌগলিকঅবস্থান ২৫°১৮’হতে  ২৫°৩১’উত্তরঅক্ষাংশ এবং ৮৯°০৮’হতে ৮৯°২৫’পূর্বদ্রাঘিমাংশ।পীরগঞ্জউপজেলারউত্তরে রংপুর জেলার  মিঠাপুকুরউপজেলা, দক্ষিণেগাইবান্ধাজেলারপলাশবাড়ীউপজেলা, পূর্বেগাইবান্ধাজেলারসাদুল্যাপুরউপজেলাএবংপশ্চিমেদিনাজপুরজেলারনবাবগঞ্জওঘোড়াঘাট উপজেলা।

 

পীরগঞ্জের সামাজিক পরিবেশ

 

পীরগঞ্জ উপজেলার অধিকাংশ অধিবাসী মুসলমান। বাকি সব হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ আদিবাসী। শতকরা ৯৫ জন মানুষই কৃষি জীবি। অন্যান্যরা ব্যবসা বানিজ্য ও চাকুরিজীবি।

            মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, শাঁক-সব্জী ও ডাল-ভাত সকলেরই প্রধান খাদ্য। তাছাড়াও তাল পিঠা, তেল পিঠা, খই-মুড়কি সহ নানা রকম মিষ্টান্ন এবং ফল-ফলান্তি তাদের প্রিয় খাদ্য। লুচি, পুরি, সিংগাড়া, চা-নাস্তা, হাট-বাজার ও শহর-বন্দরের হোটেল-রেস্তারায় খেয়ে থাকে তারা।

           

            পোশাক পরিচ্ছদ ব্যাপারে কারও কোন বাধ্যবাধকতা নেই। সার্ট, প্যান্ট, পাজামা, পাঞ্জাবি, লুঙ্গি, ফতুয়া, গেঞ্জি, গামছা এ গুলো সব সম্প্রদায়ের পুরুষেরাই ব্যবহার করে। হিন্দু-আদিবাসীদের মধ্যে ধুতির ব্যবহার এখনও দেখা যায়। বিবাহিতা মহিলারা প্রধানতঃ শাড়ি, ছায়া, ব্লাউজ ব্যবহার করে। শিক্ষিতা ও চাকুরিজীবি মহিলারা অনেকেই মেক্সি ও থ্রিপিচ ব্যবহার করেন। স্কুল কলেজ ও মাদ্রাসার ছাত্রিরা ব্যবহার করে স্যালোয়ার, কামিজ, ওড়না (থ্রিপিচ)। ইদানিং মুসলিম পরিবার গুলোতে প্রায়ই বোরখার ব্যবহার লক্ষ্যনীয়। তারা নানা রকম প্রসাধনীও ব্যবহার করে থাকেন।

 

            যুব সমাজের মধ্যে ফুটবল, ভলিবল, ক্রিকেট, হকি, ক্যারাম, দাবা প্রভৃতি খেলা-ধুলার প্রচলন আছে। দেশীয় খেলাধুলা এখন আর দেখা যায় না। তবে গ্রামীণ মেয়েদের মধ্যে বৌ-চি, গোল্লাছুট প্রভৃতি খেলা কদাচিৎ দৃষ্ট হয়।

           

            সমাজে বিভিন্ন ম্যাগাজিন, পত্র-পত্রিকা, রেডিও, টেলিভিশন দেশ-বিদেশের খবরা-খবর ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সমূহের পাঠক, দর্শক, এবং উপভোগকারীদের সংখ্যা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাশাপাশি সমাজে কিছু খারাপ দিকও লক্ষ্য করা যায়। দুশ্চরিত্রের কতিপয় বেকার যুবক বিভিন্ন ক্লাব সমিতির সুবাদে রাতে সিডি, ভি,সি, আর এ অশ্লীল ছবি দর্শন, সুদের ব্যবসা, মদ-জুয়ার আড্ডা, রাহাজানি, ছিনতাই এর মত অসমাজিক ক্রিয়া কলাপে জড়িত হচ্ছে।

 

            ভাং-গাঁজা সেবীদের খপ্পরে পড়ে অল্প বয়সে কংকাল সার হচ্ছে অনেক কিশোর। অন্য দিকে শিক্ষা-দীক্ষা, ধর্ম কর্মসহ সৃজনশীল প্রতিভারও বিকাশ ঘটছে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। সাধারন শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষা এবং ভোকেশনাল শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়ছে অনেকের । কম্পিউটার, ইন্টারনেটে আসক্তি জন্মেছে অনেক শিক্ষার্থীর। সাহিত্য সাংস্কৃতিক বিষয়েও পিছিয়ে নেই পীরগঞ্জ। বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্ঠান গুলোতে যুবক, যুব-মহিলা মিলে নাটক, থিয়েটারসহ প্রায়ই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করে থাকে তারা।

 

            মুসলমানদের মধ্যে দুটি ঈদ উৎসব। হিন্দুদের পূজা-পার্বনসহ বিবাহ, আকিকা, প্রভৃতি অনুষ্ঠানে একে অপর সম্প্রদায়কে আমন্ত্রণ করে থাকে। এখানে কোন প্রকার সাম্প্রদায়িক দ্বন্দ্ব নেই। সকল সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যবসাজীবি, চাকুরিজীবি, সহ কৃষক, শ্রমিক, কামার, কুমার, নাপিত, ধোপা, মুচি, মেথর পেশাজীবি মানুষের অসম্প্রদায়িক আবাসস্থল এই পীরগঞ্জ। সব মিলে পীরগঞ্জের সামাজিক পরিবেশ ক্রমান্বয়ে উন্নতির দিকে এগিয়ে চলছে।  

 

 

পীরগঞ্জের অর্থনৈতিক অবস্থা

 

            পূর্বেই বলা হয়েছে যে, পীরগঞ্জের শতকরা ৯৫ জন মানুষই কৃষি নির্ভর। সেহেতু এ এলাকার মাটি অত্যন্ত উর্বর। পলি ও পলি মিশ্রিত দো-অাঁশ মাটি। সেহেতু এ মাটিতে ধান, পাট, ইক্ষু, তামাক, গম, ভূট্টা, আলু-বেগুন, পটল, ডাল, সরিসা, মিষ্টি কদু, লাউ, কপি, শাক সব্জী, আম, কাঁঠাল, কলা, পেঁয়ারা, পেঁপে, প্রভৃতি খাদ্য-শস্য, ফলমূল ও জ্বালানী কাঠ প্রচুর জন্মে।

 

             বিল ,ঝিল, পুকুরে দেশি -বিদেশী মৎস্য সম্পদে এলাকার মানুষের আমিষের চাহিদা পূরণ করেও শহরে রপ্তানি হয়ে থাকে। হাঁস-মুরগি, গবাদী পশু পালনেও এলাকার মানুষ তৎপর। কোন কোন মহল্লায়, কুঠির শিল্পেরও প্রসারতা আছে।

 

            পীরগঞ্জ উপজেলা শহরের চারদিকে জালের মত বিস্তার করে আছে চতরাহাট, খালাশপীরেরহাট, ভেন্ডাবাড়িরহাট, সানেরহাট, মাদারগঞ্জহাট, বালুয়াহাট, টুকুরিয়া, বড় দরগা প্রভৃতি ছোট বড় হাট-বাজার। এ সকল হাট-বাজারের সাথে রংপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া, দিনাজপুর, ঢাকাসহ সমগ্র বাংলাদেশের যোগাযোগ উন্নত। সেহেতু পীরগঞ্জের উৎপাদিত কৃষি ও আমিষ জাত দ্রব্য সামগ্রী পরিবহনে সুবিধে জনক। ফলে উৎপাদিত পণ্য ক্রয় -বিক্রয়ের মাধ্যমে যথেষ্ঠ অর্থায়ন ঘটছে প্রতিনিয়ত। এতে করে পীরগঞ্জবাসী  একদিকে যেমন আত্ম-নির্ভরশীল হয়ে উঠছে। অন্য দিকে তেমনি দেশে আর্থিক প্রবাহ সৃষ্টি হয়েছে। উল্লেখিত হাট-বাজারে দোকান-পশার দিয়েও অনেকেই আর্থিক সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনছে।  তাছাড়াও সরকারী ব্যাংক বীমার পাশাপাশি গ্রামীণ ব্যাংক, ব্র্যাক, আশা, প্রভৃতি অর্থলগ্নিকারী এন,জি,ও সংগঠন গুলো গরীব ও বিত্তহীন মানুষ, বিশেষ করে দুঃস্থ মহিলাদের কাছে ক্ষুদ্রঋণ লেন-দেনের মাধ্যমে আয় মূলক প্রকল্প গড়ে তুলে আর্থিক উন্নয়ন ঘটাচ্ছে।

 

শিক্ষা, সাংস্কৃতি ও ধর্মীয় পরিবেশ

 

            শিক্ষা, সাংস্কৃতি ও ধর্মীয় অঙ্গনেও পীরগঞ্জ অগ্রগতির দিকে ধাবিত হচ্ছে। মধ্যযুগীয় বহু পির, ফকিরের বিচরণ ভূমি এই পীরগঞ্জ। পীরগঞ্জের মাটিতে জন্ম নিয়েছেন অনেক কবি, সাহিত্যিক, বিজ্ঞানী, ও সফল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। বর্তমান প্রেক্ষাপটেও বহু গুণীর জন্ম দিয়েছে পীরগঞ্জ। তাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভূমিকায় পীরগঞ্জের প্রত্যেক এলাকায় গড়ে উঠেছে শত শত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সে সবকে কেন্দ্র করে এলাকার হাজার হাজার শিক্ষার্থী শিক্ষা লাভ করে উচ্চ শিক্ষার জন্য দেশ-বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছে। আরো মজার কথা এই যে, এ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশ শিক্ষক শিক্ষিকা পীরগঞ্জেরই আদর্শ সন্তান।

 

            এ সমস্ত সাধারণ ও ইসলাম ধর্মীয় শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি আধ্যাত্ম শিক্ষা কেন্দ্র হিসেবে চতরা, যাদবপুর, মাদারগঞ্জ, বাজিতপুর, বউলবাড়ী, প্রভৃতি স্থানে গড়ে উঠেছে পির-ফকিরদের আস্তানা-খানকা শরিফ। গড়ে উঠেছে প্রতিটি হাট বাজার ও মহল্লা মসজিদ, হিন্দু এলাকায় মন্দির, খ্রিস্টান ও আদিবাসী পল্লীতে গীর্জা ইত্যাদি। এ সকল প্রতিষ্ঠানে সম্প্রদায় ভিত্তিক স্ব-স্ব ধর্মের ব্যক্তিগত অনুশীলন এবং উৎসবাদী পালন করে থাকেন তারা। মুসলমান সম্প্রদায় যেমন ঈদুল ফিতর, ঈদ-উল-আযহা, ঈদে মিলাদুন্নবী,  পবিত্র আশুরা প্রভৃতি উপলক্ষে বিশেষ বিশেষ ধর্মীয় উৎসব পালন করেন। হিন্দু সম্প্রদায়ও তেমনি শারদীয় দুর্গোৎসব, কালিপূজা, স্বরেস্বতী পূজা, লক্ষ্মী পূজা, ষষ্ঠি পুজা সহ বার মাসে তের পার্বন পালন করেন। খ্রিস্টানরা পালন করেন বড় দিনের উৎসব। প্রতি রবিবারে করেন গীর্জা উপসনা। আদিবাসীরা হিন্দু ধর্মের অনুরুপ উৎসব পালন করে থাকে। বিয়ে বৌ ভাত, নব জাতকের মুখে ভাত প্রভৃতি মাঙ্গলিক উৎসবে হিন্দু সম্প্রদায় ঢাক -ঢোল পিটিয়ে জমকালো অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। আদিবাসী-খ্রিস্টানরাও তাদের প্রথামত অনুরুপ অনুষ্ঠানাদি পালন করে থাকে।

 

            মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে তাদের মত বাদ্য-বাজনার রেওয়াজ না থাকলেও বিবাহ উৎসবে মেয়ে মহলে নাচ গীত এখনো প্রচলন দৃষ্ট হয়। মুসলমানদের মৃতদেহ সৎকারের জন্য কবরস্থ , হিন্দুদের চিতা ভষ্ম, আদিবাসী-খ্রিস্টানদের শবদেহ মাটিতে সমাধিস্থ করার ধর্মীয় বিধান অব্যহত আছে। প্রত্যেক সম্প্রদায় তাদের প্রথামত বিদেহী আত্মার প্রতি সম্মান প্রদর্শন ও অন্তেষ্টিক্রিয়া সম্পাদন করে থাকেন। খেলাধুলার প্রসারতার জন্য পীরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে বেশ কিছু ক্রিড়া সংগঠন ও ক্লাব সমিতি। তাছাড়াও প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক খেলাধুলার প্রচলন আছে। এ সবের মাধ্যমে সৃষ্টি হচ্ছে নিত্য নতুন খেলোয়াড়। চলছে ফুটবল, ভলিবল, ক্রিকেট খেলার প্রতিযোগিতা। সে সঙ্গে নাটক, থিয়েটার প্রভৃতি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন হয়ে থাকে বিশেষ বিশেষ দিনে।

 

            সংগীত চর্চার ক্ষেত্র হিসেবে পীরগঞ্জের কয়েকটি স্থানে সংগীত বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠিত হয়েছে রংপুরের ঐতিহ্যবাহী ভাওয়াইয়া গানের একাডেমি। তাতে সংগীত চর্চা করে প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়ে যাচ্ছে পীরগঞ্জের অনেক সুকন্ঠি সন্তান। মোর্দা কথা- শিক্ষা-সাংস্কৃতি এবং ধর্মীয় ভাবাবেশে ক্রমান্বয়ে আলোকোজ্জ্বল হয়ে উঠেছে পীরগঞ্জ। অনাগত প্রজন্মের জন্য যা হয়ে থাকবে এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

 

পীরগঞ্জের রাজনৈতিক পরিবেশ

 

            অতীত কালঃএবার আমরা অতীতের দিকে ফিরে তাকাই। সুদৃঢ় ভিত্তির উপর যেমন গড়ে উঠে শক্ত ইমারত, তেমনি অতীত ঐতিহ্যের উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত হয় একটি দেশ, জাতি ও সমাজের সোনালী ভবিষ্যৎ। আর আমরা সেই ঐতিহ্য মন্ডিত ভবিষ্যৎ কামনায় অনাগত প্রজন্মের দিশারী হতে চাই। হতে চাই সামাজিক দায়বদ্ধ আলোকিত মানুষ। ধর্মীয় ভাবাদর্শ, সাহিত্য, সাংস্কৃতি ছাড়াও রাজনৈতিক অঙ্গনেও পীরগঞ্জ বাসীর আদিকাল থেকেই ছিল সাহসী ভূমিকা।

           

            সুজলা-সুফলা বাংলার রুপ, রস, গন্ধ মোহে আকৃষ্ট হয়ে যুগে যুগে এদেশে কত যে দিগ্বীজয়ী বীর , সাধু, দরবেশ তার ইয়াত্তা নেই। সেই দ্রাবিঢ়, অনার্য থেকে শুরু করে  প্রাচীন রাজ বংশ, মারাঠা, শক, হুন, ওলন্দাজ, সুলতানাত, পাঠান, মোঘল, সবশেষে সাত সমুদ্র তের নদী পার হয়ে এসেছে বৃটিশ বেনিয়ার দল।

 

            ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় যতদুর জানা যায় ইংরেজ ব্যবসায়ীগণ অবিভক্ত বাংলার বিভিন্ন জনপদের মত পীরগঞ্জের বালুয়া, হাতিবান্ধা, চতরা এলাকায়ও কুঠি স্থাপন করেছিলেন। এ সমস্ত এলাকায় ছিল মিঃ ফুলটনের কুঠি । এ সব কুঠিতে রেশমের চাষ হত। তুতের চাষ ও নীলকর ব্যবসায়ী হিসেবে মিঃ ফুলটন ছিল সুপরিচিত। ইংরেজ ব্যবসায়ীরা অত্যাচারী ছিল হেতু মিঃ ফুলটন সহ কতিপয় ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ১৮০১ সালের ১০ এপ্রিলে রংপুরের জমিদার ও ভূ-স্বামী গণের প্রতিনিধি হিসেবে জমিদার পার্বতী চৌধুরানী প্রমুখ রংপুরের কালেক্টর মিঃ ব্রাইট এর সমীপে অভিযোগ উত্থাপন করেছিলেন। এ সময় পীরগঞ্জের সাধারণ জনগণ তাদের সহযোগি ভূমিকা পালন করেছেন বলে জনশ্রুতি আছে।

 

            এখানে উল্লেখ্য যে, যেহেতু হযরত শাহ্ ইসমাঈল গাজির বিশাল বিজয়, অলৌকিক ক্ষমতা ও নৃশংস হত্যাকান্ড জনিত কারণে পীরগঞ্জ এলাকায় বিপুল জনপ্রিয়তা রেখে যান। সেহেতু রুকনুদ্দীন বারবক শাহ এর শাসনামল থেকে ইংরেজ কোম্পানীর শাসনামল পর্যন্ত প্রত্যেক শাসকই তার মর্যাদা রক্ষায় অনেক মুসলিম পরিবারকে লাখেরাজ সম্পত্তি ভোগের অধিকার দিয়ে যান। ফলে এই সকল মুসলিম এলিট পরিবার ইংরেজ শাসনামলে রাজস্ব আদায়ের নিপীড়ন হতে মুক্ত থাকেন। তাই অন্যান্য জনপদের মত পীরগঞ্জে ফকির সন্যাসী বিদ্রোহ, কৃষক- প্রজা বিদ্রোহ প্রভৃতি আন্দোলন দানা বেধে ওঠেনি।  তবে ধর্মীয় ও আধ্যাত্ব ভাবাদর্শে অনুপ্রাণিত পীরগঞ্জের মুসলমান সম্প্রদায় ইংরেজ শাসক গোষ্ঠিকে ঘৃনা করেছেন ঠিকই। কিন্তু ওহাবী, ফরায়েজী, সিপাহী, আন্দোলনের মত যে কোন ব্যর্থ আন্দোলনে নিজেদেরকে জড়ানোর উৎসাহ বোধ করেনি বলে জানা যায়। বরং তারা সাহিত্য-সাংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে ইসলামের সুমহান আদর্শ ও মাহাত্ম প্রচারে আত্ম নিয়োগ করেছিলেন বলা যায়।

 

            ঊনিশ দশকের দ্বিতীয়ার্ধে স্যার সৈয়দ আহমেদ খাঁন, সৈয়দ আমির আলী প্রমুখ গণের প্রেরনায় এবং ইংরেজ সরকারের উৎসাহে বাঙালী মুসলমানদের মধ্যে ইংরেজি শিক্ষার আগ্রহ জেগে ওঠে। বাঙালী মুসলমানদের এই জাগরণের শুরুতে মোঃ জিয়াফত উল্যাহ সরকার ১৮৮৭ খ্রিস্টাব্দে এন্ট্রান্স পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তিনি পীরগঞ্জের মাদারগঞ্জ হাটের একবারপুর গ্রামের মুনশি খোদা বক্স সরকারের পুত্র। তার পর থেকেই পীরগঞ্জে ইংরেজি শিক্ষা তথা উচ্চ শিক্ষার দ্বার উন্মুক্ত হয়। ক্রমান্বয়ে রাজনৈতিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয় পীরগঞ্জের মানুষ।

 

            শতাব্দীর পরিক্রমায় ইংরেজ শাসক ও জমিদারদের অত্যাচার থেকে বাংলার মানুষকে মুক্ত করার জন্য আন্দোলন শুরু হয়। পরিশেষে বৃটিশ বিরোধী প্রচন্ড আন্দোলন ও সমঝোতার মধ্য দিয়ে বঙ্গ বিভাগ করে যান লর্ড কার্জন। সে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন প্রয়াত কমরেড বাবু মণি কৃষ্ণ সেন। তিনি পীরগঞ্জের কাবিলপুর ইউনিয়নের একজন সংগ্রামী বীর পুরুষ। তার সম্পর্কে যথাস্থানে আলোচনা করা হবে।